গোলাম রববানী,হরিপুর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: প্রাচীন কাল থেকে দেশীয় মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিলো, হরিপুর উপজেলার ৪ নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গীপাড়া বিল। দাগ নং ১৪০৮, পরিমান ৬,৬২ শতক ও দাগ নং ১০২৪ পরিমাণ- ১৬.০৫ শতক।
এরশাদ সরকারের আমলে ১০২৪ দাগে পুকুর খনন করে, মাছ চাষের উপযোগী করে। পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংককে দশ বছরের জন্য লিজ প্রদান করে।লিজ থাকাকালীন সময়ে পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে, তৎকালীন ক্ষমতাশীল দলের প্রভাবশালী নেতা পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে জলাশয়টি করে দখলে নেয়।অপর দাগ নং ১৪০৮ এ এরশাদ সরকারের আমলে একটি কুচক্রী মহল জমি আকার পরিবর্তন করে,ভূয়া কবুলিয়ত দেখিয়ে ডাঙ্গীপাড়া বিল দখলে নেয়। অতীতে বিলে অসংখ্য জলজ উদ্ভিদ, নানান প্রজাতির পাখি বাস করত, যেমন,বালি হাঁস, ডাহুক, শাড়লি,শামখোল,ফুলোহর,মদনটাক, বক,কাক,পানকৌড়ি, পেচা,কাগ ইত্যাদি ।
এই জীববৈচিত্র্য আজ বিলুপ্তির পথে।এখনো ১০২৪ দাগে ১৬.৫ একর জলাশয়ে হাজার হাজার বালিহাঁস, বক,সহ নানান প্রজাতির পাখির বাস, উক্ত জলাশয়ে দিনের বেলায় পাখির কলতানে মুখরিত থাকে। অপর ১৪০৮ দাগের জমির আকার পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত পুকুর করায় দেশীয় মাছের প্রজনন স্থান ধ্বংস হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি জানিয়েছেন, বাপ-দাদার আমলে থেকে দেখে আসার বিলের প্রাকৃতিক জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে। যদি প্রাকৃতিক-বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যায়,এই বিলের দেশীয় মাছ ও নানান প্রজাতির পাখি যদি হারিয়ে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষায় করতে হবে । এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে কিভাবে এই বিশাল প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধরে রাখা যায়।
এই ডাঙ্গীপাড়া বিলকে দ্রুত নানান প্রজাতির মাছ ও পাখির আবাসস্থলকে অভায়শ্রম করার একান্ত প্রয়োজন । পক্ষান্তরে যে সব ব্যক্তি সরকারের সম্পত্তির ভূয়া কবুলিয়ত দেখিয়ে আকার পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত পুকুর খনন করে দেশীয় মাছ চাষের স্থান ধ্বংস করেছে। সরকারি সম্পত্তির কবুলিয়ত নীতিমালা স্পষ্ট লংঘন। খাল,বিল, নদী নালা, সরকারি সম্পত্তির দূর্নীতি করে কবুলিয়ত নিয়েছেন, এলাকাবাসির জানান যেহেতু খাল, বিল,নোনা,কবুলিয়ত দেওয়ার বিধান নেই। সেহেতু কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি ভূয়া কবুলিয়ত বাতিল করে পাখির অভায়শ্রম ও দেশীয় মাছের নিরাপদ আশ্রয় স্থল করা হোক। ইতিমধ্যে এলাকায় অভয়াশ্রমে করণের জোরালো ভাবে দাবি উঠেছে।