গোলাম রব্বানী,হরিপুর প্রতিনিধিঃ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলা এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন হরিপুর উপজেলার হেফাজতে ইসলাম ও তৌহিদী জনতা। ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারা এ প্রতিবাদ করেছেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) জুম্মার নামাজের পর হেফাজতে ইসলাম,তৌহিদী জনতা ও সর্বস্তরের ছাত্র বিভিন্ন জায়গায় থেকে এসে হরিপুর মডেল মসজিদের সামনে জমায়েত হয়। সেখান থেকে আজ (২১-৩-২০২৫) তারিখে বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় এক বর্ণাঢ্য র্যালী শুরু হয়ে উপজেলা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলীতে এসে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
হরিপুরের সর্বস্তরের ছাত্র ও তৌহিদী জনতার আয়োজনে, হরিপুর উপজেলার প্রধান প্রধান ফটকে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাসূদূর রহমান হামিদী বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে সর্বদাই ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলেছেন, কাজ করেছেন, আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি মিডিয়ার মাধ্যমে সকলকে জানিয়ে দিতে চাই।
বাংলাদেশের কোন সরকার কোন প্রশাসন কোন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন না দিয়ে ইজরায়েল কে সমর্থন দেয়, তাহলে তাদেরকে গলা ধাক্কা দিয়ে ইজরায়েলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।মাওলানা আনসারুল ইসলাম বলেন
জাতিসংঘকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনারা নাকি শান্তি স্থাপনকারী! তাহলে ইসরায়েল বারবার আগ্রাসন চালাতে পারছে কীভাবে? এই ধরনের সংগঠনের দরকার নেই। প্রয়োজনে মুসলিম বিশ্ব আলাদা জাতিসংঘ গঠন করবে।”
মুফতি আব্দুর রহিম, সভাপতি, হেফাজতে ইসলাম হরিপুর উপজেলা বলেন “হে মুসলিম বিশ্বের নেতারা, আপনারা কোথায়? ২০০ কোটি মুসলিম কোথায়? আপনারা কি শুধু আবাবিলের স্বপ্ন দেখেন? হে আরব বিশ্ব, ১৯৭৩ সালে তেল অবরোধ করেছিলেন, এখন তা করতে ইচ্ছে করে না? এখনো পশ্চিমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে চান?”
জামায়াত ইসলামী নেতা মো.দবিরুল ইসলাম বলেন, “ইসরায়েলি পণ্যগুলো আজ থেকে বয়কট করলাম। বাড়িতে আর তাদের পণ্য রাখবেন না।”হাফেজ মাওলানা গোলাম রব্বানী বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকেই প্রতিবাদ করতে হবে।”দিন দিন নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বর হামলা চালানো হচ্ছে। এই হামলায় পশ্চিমাসহ কিছু আরব দেশও সাহায্য করছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, তার নিন্দা জানাই। চারদিকে যখন লাশের স্তূপ, তখনও আরব বিশ্ব ঘুমিয়ে আছে। শুধু দোয়া করলেই সব সমাধান হয়ে যেত, তাহলে উহুদ কিংবা বদরের যুদ্ধের প্রয়োজন হতো না। তাই সবাইকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে হবে।