হানিফুর আলী, স্টাফ রিপোর্টারঃ বীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হঠকারি সিদ্ধান্তে ক্ষতির মুখে প্রন্তিক আলু চাষী। জানাজায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পাঁচ দফা দাবিতে মহাসড়কে আলু ঢেলে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বীরগঞ্জের শহিদ মিনার সম্মুখ সড়কে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের ব্যানারে দুই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে পঞ্চগড়-রংপুর মহাসড়কে আলু ঢেলে বিক্ষোভ করে ব্যবসায়ীরা। এ সময় বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে এলাহী এসে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে তথাকথিত আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড এর লোকজন সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে বলে জানাগেছে ।
বাংলায় একটা প্রবাদ আছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা মানুষ বুঝে না। মহাসড়কে আলু ঢেলে যে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা আসলে এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে বড় ধরণের রহস্য মুলত ফরিয়া বা দালালদের এটি প্রন্তিক আলু চাষীদের ফাঁদে ফেলেছে। তাঁরা উপজেলা প্রশাসনকে বলীর পাঠা বানিয়েছে। বীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হঠকারি সিদ্ধান্তে ক্ষতির মুখে প্রন্তিক আলু চাষীরাই পড়েছে। মাঠ পর্যায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে স্থানীয় প্রন্তিক আলু চাষীরা মুক্ত কলম রিপোর্টারকে বলেন আমাদের বোকা বানানো হয়েছে ভুলভাল বুঝিয়েছে আলু ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল এবং এরফান এই দুজন আলু ব্যবসায়ী তাঁদের মুল উদ্দেশ্য ছিলো এভাবে সাধারণ নিরিহ প্রান্তিক চাষিদের উল্টো পাল্টা বুঝিয়ে এই আন্দোলন করানোর এবং উপজেলা প্রশাসনকে বোকা বানানো।
মহা সড়ক অবরোধকারীরা বেশিরভাগ সিন্ডিকেট আলু ব্যবসায়ী বলে জানাজায়। উক্ত আলু ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের কিছু ব্যবসায়ীকে তারাই এই আন্দোলন করে ছবিতে দেখা যায় শিশুসহ অনেক সুবিধাবাদী আলু ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলো উক্ত আন্দোলনে। তাঁরা ফন্দী করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে যাতে আলু হিমাগারগুলো উপজেলা প্রশাসন শীল গালা করে দেয় এবং কৃষকদের আলু মাঠে পড়ে থাকে। এক পর্যায় ক্ষেতে আলু ব্যবসায়ীরা গিয়ে কম মুল্যে/ আধা মাগনা দামে আলু কিনতে পারে। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাঁদের মুল লক্ষ্য ছিল এই ধরণের একটা ঘটনার জন্ম দিয়ে সাধারণ নিরিহ প্রান্তিক চাষিদের আলু হাতিয়ে নেওয়া।
স্থানীয় আলু চাষীরা জানান সঠিক সময়ে আমরা যদি আলু হিমাগারে ঢুকাতে না পারি তাহলে মাঠেই শুকিয়ে যাবে তাঁতে আমরা আরও বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বো। আমরা অনেকে ধার দেনা করে আলু চাষ করেছি এখন এই ঘটনার কারণে যদি এক মাসও হিমাগার বন্ধ থাকে আমরা মারা পড়বো। আমরা এখন বুঝতে পারছি এই আন্দোলনের মূল কারণ। আমরা আলু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের জালে ধরা পড়েছি।
ইউ এনও আমাদের উপকার করেনি ক্ষতি করেছে অনতি বিলম্বে সিন্ডিকেট আলু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখিত করতে হবে। এবং আমাদের বাঁচাতে হবে এছাড়া আমাদের উপায় নাই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভম আলু হিমাগারগুলো খুলে দেওয়া হোক। তানা হলে আমাদের এই ক্ষতিপূরণ উপজেলা প্রশাসনকে দিতে হবে। এবং হিমাগারের মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধান করে আমাদের বাঁচান।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহী মুক্ত কলমকে জানান হিমাগারগুলো শীলগালা করা হয়েছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মতাবেক তিনি জানান গত বছর হিমাগার গুলো ৪ টাকা ছিলো কিন্তু এবছর ডাবল করা হয়েছে এটা যুক্তি সঙ্গত না। তিনি জানান হিমাগারের মালিকের সাথে কথা বলেছি তাঁরা সাড়া দেয় নাই তাই স্থানীয়দের সাথে নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাবলুরহাট বীরগঞ্জের শাহী হিমাগারের দুইটি শীল-গালা করা হয়েছে। উক্ত ঘটনার বিবরণে ম্যানেজার বলেন হুট করে নির্বাহী অফিসার বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতাসহ কিছু আলু ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়ে এসে কোন কথা না বলে বা নোটিশ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষ , প্রধান ফটকে শীলগালা করে চলে যান এবং উনাদের সামনের আফজাল এবং এরফান এই দুজন আলু ব্যবসায়ী আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মারতে আসেন নির্বাহী অফিসার নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করেন। দেখে মনে হচ্ছিলো এটি পরিকল্পিত সাজানো ঘটনা।
এছাড়াও বীরগঞ্জের ব্রাকের ডিস্ট্রিবিউশন অফিসার লিটন খন্দকার মুক্ত কলমকে জানান আমরা এই শাহী হিমাগারে আলুর বীজ রাখি। এরি লক্ষে আমরা শাহী হিমাগারের কর্মকতার সাথে যোগাযোগ করি বীজ সংরক্ষণ করার জন্য শাহীমাগারের ম্যনেজার আমাদের জানান আলু বীজ রাখতে পারবেন। কিন্তু হুট করে বীরগঞ্জ নির্বাহী অফিসার হিমাগারে সীলাগালা করেদেন এতে আমরা অনেক বড় ক্ষতির মুখে পড়বো কারণ মাঠে আমাদের অনেক পরিমাণ আলুর বীজ পড়ে আছে। নির্বাহী অফিসার এমন হটকারি সিদ্ধান্ত না নিয়ে মালিকপক্ষ ও প্রকৃত আলু চাষীদের সাথে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারতেন। এখন যদি ১ মাসও হিমাগার বন্ধ থাকে কৃষকসহ সকলে ক্ষতির মুখে পড়বে এর দায় দায়ীত্ব কে নিবে?
শাহী গ্রুপের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন মুক্ত কলমকে জানান আমার প্রতিষ্ঠানে বীরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বড় কোন কারণ বা কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই কার নির্দেশে ১৫ মিনিট সময় দেন ব্যাগ এন্ড ব্যগেজ সহ বের হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। আমার কর্মর্কতা ও কর্মচারিদের বের হতে বলেন এবং সীলগালা করে দেন আমি সে সময় ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। তিনি বলেন কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে কৃষকের সার্থ্য সংরক্ষনের জন্য এমন একটি প্রতিষ্ঠান করতে কোটি টাকা ব্যয় হয়।
একটা সুনাম ধন্য প্রতিষ্ঠানে কারণ ছাড়া সীলগালা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা এই হটকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আলু চাষীরা বড় ধরণের বিপদে পড়বে। এই সিদ্ধান্তের কারণে মাঠে আলু পড়ে আছে এতে আলু চাষীরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন যদি অনতি বিলম্বে উপজেলা প্রসাশন আমাদের প্রতিষ্ঠানের সীলগালা খুলে না দেয় তাহলে আমাদেরও সংগঠন আছে। আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। তাঁতে ক্ষতির সম্মুখিন হবে সাধারণ প্রন্তিক আলু চাষীরা এর দায় দায়ীত্ব কে নিবে? আলু ব্যবসায়ীরা না উপজেলা প্রশাসন?