রাসেল সরকার, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ দিন বদল ও আধুনিকতার আশীর্বাদে হারিয়ে যেতে বসেছে পালপাড়ার সেই রমরমা অবস্থা। এক সময় মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, ঘটি, মটকা, সরা, কাসা, কলস, ব্যাংক, প্রদীপ, পুতুল, কলকি ও ঝাঝরের বিকল্প ছিল না। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া আর মানুষের রুচির পরিবর্তনে মাটির তৈরি সামগ্রীর স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টিল আর অ্যালুমিনিয়ামের নানা সামগ্রী। তাই বাজারে চাহিদা কম এবং কাঁচামালের চড়া মূল্য আর পুঁজির অভাবে টিকতে না পারায় সংকটে পড়েছে পাবনার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীরা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাঁচতে পারে এ শিল্প। মৃৎশিল্পীরা জানান, ব্যবহারিক জীবনে এখন মৃৎশিল্পের তেমন আর ভূমিকা নেই। এ শিল্পে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধিত না হওয়ায় বর্তমানে এই পেশায় টিকে থাকা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার পালপাড়ায় গেলে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি করে রোদে শুকাতে দিচ্ছে কুমাররা, কেউ বা ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন সামগ্রী তৈরিতে, কেউ বা করছেন রং এভাবেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মব্যস্ততা। পালপাড়ার মায়া রাণী বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এ কাজ করি। আগে মাটির সামগ্রীর প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর তেমন নেই। শীত মৌসুমে পিঠাপুলির সামগ্রী তৈরি করেই কোনোমতে চলে সংসার। তিনি জানান, এমনিতেই ব্যবসা চলে কম তার ওপর নেই রাস্তাঘাট তাই গৌড়িপুর পালপাড়া থেকে নিমাইচড়া বাজার পর্যন্ত পাকা সড়কের দাবি জানান তিনি। কাঁচামাটির পাত্র পুড়িয়ে পরিণত করতে ব্যস্ত দুলাল পাল। এ ব্যস্ততার ফাঁকে তিনি বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে বাপ-দাদার শেখানো পেশায় কাজ করছি। আগের দিনে বাজারে মৃৎপাত্রের প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন অনেকটাই কম। অন্য কাজ জানা নেই তাই এ পেশাই আঁকড়ে ধরে আছি। দুলাল পাল জানান, পেশাগত প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণ পান না তারা। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর যাবে বলে জানান তিনি। স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্পকে বাঁচাতে সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ খুবই প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বিকাশ পাল, সম্বল পাল, দরদী পাল ও সুবর্ণা পাল জানান, এক সময়ে এই গ্রামে মৃৎশিল্পের রমরমা ব্যবসা ছিল। আগে গৌড়িপুর গ্রামে প্রায় ১১০ ঘর মৃৎশিল্পের কাজ করতো। কিন্তু এখন ১০-১৫ ঘরে প্রায় ৩০-৩৫ জন পাল এ কাজের জড়িত। এ ব্যাপারে গোপাল চন্দ্রপাল বলেন, আগের দিনে মৃৎশিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন এঁটেল মাটি,রং, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি ছিল সহজলভ্য।

কিন্তু বর্তমানে এসব প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাড়ির উঠোনে পাত্রগুলোতে রং করতে করতে উজ্জ্বল কুমার পাল জানান, সাধারণত মৃৎপাত্রগুলো কুমার পরিবারের নারী-পুরুষ উভয়ে মিলেমিশে তৈরি করে। এই তৈরিকৃত সামগ্রী বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যান। অনেকে আবার বাড়ি বাড়ি ফেরি করেও বিক্রি করেন। তিনি বলেন, শুধু পাবনা নয়, গোটা দেশে এ পেশায় নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কারও যেন মাথাব্যথাই নেই। অনিতা ও প্রার্থনা পাল বলেন, আগের দিনে ব্যবসা অনেক ভালো চলতো বর্তমানে মানুষ প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করায় এখন কম চলে।

আগে কলসিসহ বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরি করলেও বর্তমানে তা ব্যবহার কম হওয়ায় এখন শুধু ঝাঁঝর, কাসা, হাঁড়ি পাতিল তৈরি করি। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের এখন দুর্দিন চলছে। বিশেষ করে মৃৎশিল্প অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। যেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে আমরা কারিগরদের সঙ্গে ছিলাম এবং থাকবো। তাদের অর্থনৈতিকভাবে সহায়তার ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণ ব্যবস্থা রয়েছে। তারা যোগাযোগ করলে অবশ্যই সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া স্থানীয় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে চাইলে সে ব্যাপারেও আমরা সহযোগিতা করা হবে।

ফেসবুক মন্তব্য


মতামত জানান :

 
 
 

শিরোনাম :

দেশীয় মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পুকুর খনন,দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত  লালমনিরহাট জেলা পুলিশ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা আটক ৮ ঠাকুরগাঁওয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সেনাবাহিনীর চিরুনী তল্লাশি কক্সবাজারে ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে চরম ভোগান্তি, দূভোগে মানুষ কবিতা: ঈদ মোবারক ঈদ-লুনা জাহান চীন সফর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি বড় সাফল্যঃ মির্জা ফখরুল ৫ম ফিলিপসিয়ান ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫ তেঁতুলিয়া কালান্দিগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ে ভাড়া বেশি নেওয়ায় বাস কাউন্টারে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা ঈদ মোবারাক দিনাজপুরে আজ রবিবার আগাম ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে ঈদ বস্ত্র বিতরণ বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নিয়ে আমিরাতের জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্র যা বলছে দিনাজপুরে ভয়াবহ ছুরিকাঘাত ও মারপিটের ঘটনায় ৫ আসামি গ্রেফতার সম্পাদকীয়ঃ ভূ-রাজনীতি ও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র – উপদেষ্টার চীন সফরের প্রেক্ষাপট পীরগঞ্জে বৃদ্ধা মাকে শারীরিক নির্যাতনের ছেলে ও পুত্রবধূ বিরুদ্ধে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে আতর-তসবিহ কেনার ধুম ময়মনসিংহে একটি গ্রাম বিক্রি করে দিলেন এক ব্যক্তি দিনাজপুরে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু আমি তোমাকে ৩ টি কারনে এই চিঠিটি লিখছি পার্বতীপুরে মডেল থানায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রায় রংপুর হাইওয়ে পুলিশের প্রস্তুতি নিরাপদ যানজট মুক্ত ঢাকা-বেইজিংয়ের মধ্যে ৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পে ব্যাংককে ৩০ তলা ভবন ধসে আটকা ৪৩ জন, জরুরি অবস্থা জারি ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষকলীগ সভাপতি পবারুল মাস্টার আটক ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নেতা সরকারি চাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে আটক বেগম জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় চিলাহাটিতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত গণতন্ত্রের সুষ্ঠু উত্তরণে বান কি মুনের সমর্থন চেয়েছেন ড. ইউনূসের সাক্ষাতকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিসমূহ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে
Translate Here »