পি. কে রায়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (৩১মার্চ) দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর এ শহীদ বড় ময়দানে সকাল ৯ ঘটিকায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে অংশগ্রহণ করতে খুব সকাল থেকেই দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ জেলার আশেপাশের উপজেলা ও বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ঈদগাহ ময়দান। বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রচন্ড রোদ ও গরমকে উপেক্ষা করে এশিয়া উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদগাহ ময়দানে একসংগে লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করে। ঈদের নামাজের ইমামতি করেন আননুজুস মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান।
এসময় তিনি দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।ঈদের জামাতকে সুষ্ঠুভাবে ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ছিল কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি। মাঠের আশেপাশে পুলিশ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন তৎপর। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য ছিল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা ও ডিবি পুলিশের সদস্যবৃন্দ। ঈদগাহ মাঠে প্রবেশের জন্য ১৭টি তোড়ন বা প্রবেশ পথ ছিল এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ঈদগাহে রয়েছে ৫২টি গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, এর মধ্যে দুটি মিনার ৫০ ফুট করে এবং প্রধান মিনারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এসব মিনার আর গম্বুজের প্রস্থ হলো ৫১৬ ফুট। দেশের বড় ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ ঈদগাহ মিনারটি। প্রত্যেকটি গম্বুজে দেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ। ৫২টি গম্বুজ ২০ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। গেট দুটির উচ্চতা ৩০ ফুট নির্মাণে নান্দনিক স্থাপনা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য স্টেশন ক্লাব, সার্কিট হাউজ, শিশু একাডেমী এবং জেলা গণগ্রন্থাগারে সুব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসল্লিদের ওজুখানা ও অস্থায়ী শৌচাগার ব্যবস্থাসহ মুসল্লিরা যাতে নিরাপদে এসে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে তার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এই বৃহত্তম ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান “জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রচন্ড রোদ আর গরমে মুসল্লিদের একটু কষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, সুন্দরভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়েছে”।
সেই সাথে সরকার ও দিনাজপুরের ৩৩লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সকলকে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন মারুফ বলেন “ঈদের জামাতের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল সদা তৎপর। মানুষ যেন হাসিমুখে বাসা থেকে এসে ঈদের নামাজ পড়ে হাসিমুখে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রসঙ্গত ১৯৪৭সালে দেশ ভাগের পর থেকে দিনাজপুর গোর এ শহীদ বড় মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২২একর আয়তনের গোর এ শহীদ বড় ময়দানে ২০১৫সালে ৫২গম্বুজের ঈদগাহ মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দেড় বছর পর এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং ২০১৭সাল থেকেই প্রতিবার দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা-জেলার কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসংগে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন।